Thursday, 18 September 2025

আলোচনার মধ্যে আন্দোলন কেন, ব্যাখ্যা দিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি

 

আলোচনার মধ্যে আন্দোলন কেন, ব্যাখ্যা দিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি


জুলাই সনদের ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানসহ ৫ দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ ফটকে।ছবি: দীপু মালাকার

আলোচনা চলমান থাকা অবস্থায় সংস্কার বাস্তবায়ন প্রশ্নে কেন মাঠের কর্মসূচি দেওয়া হলো, সেটার ব্যাখ্যা দিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ‘আলোচনার টেবিলে যাচ্ছি কিন্তু সে আলোচনায় সফলতার মুখ দেখছি না। মনে হয় কোনো চাপের মধ্যে পড়ে সরকার একটি শুভংকরের ফাঁকির দিকে যাচ্ছে।’

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ ফটকে জামায়াত আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এ কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, এই আন্দোলন জনগণের আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরার জন্য।

আগামী ফেব্রুয়ারিতে জুলাই সনদের ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানসহ ৫ দফা দাবিতে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল জিপিও মোড় থেকে বের হলে পল্টন মোড়, জাতীয় প্রেসক্লাব ও হাইকোর্টের সামনে দিয়ে মৎস্য ভবন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এতে জামায়াতের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী অংশ নেন।

ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে সংস্কার বাস্তবায়ন প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামীসহ সাতটি দল তিন দিনের প্রায় অভিন্ন কর্মসূচি দিয়েছে। এর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপিসহ কয়েকটি দল।

এই আন্দোলনকে ‘রাজনীতির অংশ’ উল্লেখ করে বিক্ষোভ সমাবেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিয়ে সেটার ভিত্তিতেই নির্বাচন হতে হবে। ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র কাঠামো সংশোধনের জন্য এত রক্ত দেওয়া হলো। এত আলোচনা হলো। এখন যদি একটি দল বলে সংস্কার পরে হবে, তাহলে এত পরিশ্রম করানো হলো কেন?

বিদ্যমান রাষ্ট্র কাঠামোতে নির্বাচন হলে আরেকটি ফ্যাসিবাদের জন্ম হবে উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্যগুলো ঠিক করার জন্য যত সংস্কার তা যদি নির্বাচনের আগে না হয়; বিদ্যমান রাষ্ট্র কাঠামোতে যদি আবার নির্বাচন হয় তাহলে এই কাঠামোতে আরেকটি ফ্যাসিবাদের জন্ম হবে। আরেকটি হাসিনার জন্ম হবে।’

যৌতুকের জন্য জখম: ভুক্তভোগী নারীর জন্য বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা তুলে দিতে হবে

 

যৌতুকের জন্য জখম: ভুক্তভোগী নারীর জন্য বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা তুলে দিতে হবে


যৌতুক দাবি, যৌতুকের কারণে সাধারণ জখমের শিকার নারীদের মামলা দায়েরের আগে বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতার বিধান’ শিরোনামে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তারা। আজ বুধবার বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কার্যালয়ে।


যৌতুকের মতো অপরাধের ঘটনায় মামলার আগেই ভুক্তভোগী নারীকে বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতায় যেতে বাধ্য করা গ্রহণযোগ্য নয়। এর মাধ্যমে যৌতুকের কারণে নির্যাতনে সাধারণ জখমের শিকার হওয়া নারীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার বাধাগ্রস্ত হবে। এ অভিমত দিয়ে সরকারকে দ্রুত এ ধরনের বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা তুলে নিতে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন একটি মতবিনিময় সভার বক্তারা।

আজ বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এ সভার আয়োজন করে। ‘যৌতুক দাবি, যৌতুকের কারণে সাধারণ জখমের শিকার নারীদের মামলার আগে বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতার বিধান’ শিরোনামে মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কার্যালয়ের সুফিয়া কামাল ভবনের আনোয়ারা বেগম-মুনিরা খান মিলনায়তনে।

মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, প্রয়োজনে এটাকে ঐচ্ছিক করা যেতে পারে। যাতে ভুক্তভোগী নারী নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তিনি আপসে যাবেন, নাকি সরাসরি মামলা করবেন। তা না হলে লিগ্যাল এইড কর্মকর্তার কাছে গিয়ে মধ্যস্থতার হাজার হাজার ঘটনায় জেলা পর্যায়ে বিচারব্যবস্থা ধসে পড়তে পারে।

সভায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদা রেহানা বেগম। তাতে বলা হয়, সার্বিক দিক বিবেচনা করে যৌতুক দাবি ও যৌতুকের কারণে সাধারণ জখমের শিকার নারীদের মামলা রুজু করার আগে বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতার বিধানটি পুনর্বিবেচনা করতে হবে। যদিও সরকার মনে করছে, মামলার জট কমানোর জন্য মামলা করার আগে অভিযোগকারী ও অভিযুক্তের মধ্যে মধ্যস্থতা করে মামলার জট কমানো সম্ভব হবে। তবে অভিজ্ঞতা বলে, এতে মামলার দীর্ঘসূত্রতার সুযোগ সৃষ্টি হবে। তা ছাড়া যৌতুকের কারণে সাধারণ জখম হলেও মেডিকেল রিপোর্ট প্রয়োজন হয়। সে ক্ষেত্রে সমঝোতার সুযোগে সাধারণ জখমের চিহ্ন নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে, ফলে পরবর্তী সময়ে মামলা প্রমাণে আইনগত জটিলতার সৃষ্টি হবে।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে যৌতুকের কারণে সাধারণ জখমের ১১(গ) ধারায় মিথ্যা মামলা হয়, এটা ঠিক। তাই বলে অপপ্রয়োগ ঠেকাতে সত্যিকারের ভুক্তভোগীকে হয়রানি করা যাবে না। সহিংসতার শিকার নারীকে জোর করে সমঝোতায় নেওয়া যাবে না। এটা মৌলিক অধিকার পরিপন্থী। তিনি বলেন, ‘বাধ্যতামূলক’ শব্দ ব্যবহারের বিরুদ্ধে অধিকারকর্মীরা আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারেন। কারণ, এই বাধ্যবাধকতা একজন নারীকে মানসিকভাবে বিপর্যন্ত করবে। আপস সম্ভব না হলে একধরনের সামাজিক কলঙ্ক মাথায় নিয়ে তাঁকে আদালতে যেতে হবে। প্রতি জেলায় কমপক্ষে সাত–আটটি পারিবারিক আদালত এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল রয়েছে। এখানে যাঁরা মামলা করতেন, তাঁদের সবাইকে এখন যেতে হবে লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইন বিশ্লেষক ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ ফউজুল আজিম বলেন, পারিবারিক আদালত, যৌতুকসহ ৯টি ক্ষেত্রে মামলা করার আগে মধ্যস্থতার জন্য লিগ্যাল এইড কর্মকর্তার কাছে যেতে হবে। এতে করে আগামী এক মাসের মধ্যে জেলার বিচারব্যবস্থা ধসে পড়বে। হাজার হাজার মামলার চাপ পড়বে। ভুক্তভোগীদের দরখাস্তের বিপরীতে কতজনকে সমন পাঠাবেন লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ১১(গ) ধারায় মামলার অপব্যবহার হয়, সেটা অন্য জিনিস। কিন্তু যেসব মামলা প্রকৃত, সেসব কেন যথাযথভাবে শনাক্ত হবে না। কেন ওই নারীকে আপসে যেতে বলা হবে।

অন্তর্বর্তী সরকার ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন’ সংশোধন করে মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক করে গত ১ জুলাই অধ্যাদেশ জারি করে। ‘আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অধ্যাদেশ অনুসারে, যৌতুকের ক্ষেত্রে সাধারণ জখমের মামলায় প্রথমে ভুক্তভোগী নারীকে লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য আবেদন করতে হবে। মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া ব্যর্থ হলে কোনো পক্ষ প্রয়োজনে আদালতে মামলা করতে পারবে। সংশোধিত অধ্যাদেশের ২১ (খ) ধারা ৯টি আইনের সুনির্দিষ্ট কিছু ধারার ওপর প্রয়োগের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ১১ (গ) ধারা এবং যৌতুক নিরোধ আইন ২০১৮-এর ৩ ও ৪ ধারা, পারিবারিক আদালত আইন ২০২৩–এর ৫ ধারা ইত্যাদি। ১৫ সেপ্টেম্বর সরকারের গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে এ ব্যবস্থা ১২টি জেলায় কার্যকর হয়েছে। জেলাগুলো হলো ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, রংপুর, দিনাজপুর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, কুমিল্লা, নোয়াখালী, রাঙামাটি, সিলেট, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ।

বিষয়টি নিয়ে আজকের মতবিনিময় সভায় অনলাইনে যুক্ত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসলিমা ইয়াসমীন। তিনি বলেন, সহিংসতার শিকার নারীর জন্য ব্যবস্থা রাখা উচিত ছিল, তিনি পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ আইনে যাবেন, নাকি ১১( গ) ধারায় মামলা করবেন।

 বাধ্যতামূলক করে তাঁর ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। লিগ্যাল এইড কর্মকর্তার সংকট রয়েছে। এতসংখ্যক মধ্যস্থতা করার সক্ষমতা তাদের আছে কি না, সেটাও দেখতে হবে। গোড়াটা চিন্তা না করে ওপর থেকে আইন সংশোধন চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে সবার সোচ্চার হতে হবে।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নারীর অধিকারের ক্ষেত্রগুলো এখন সবদিক দিয়ে সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এই অধ্যাদেশ সেটাকে আরও সংকুচিত করে দিল। এটা নারীর মানবাধিকারের মৌলিক জায়গা নস্যাৎ করে দিচ্ছে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, দীর্ঘদিন লড়াই করে যৌতুকের শিকার নারীদের সুবিচার পাইয়ে দেওয়ার জন্য আইন করা গিয়েছিল। অধ্যাদেশের মাধ্যমে এখন সেই অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।

মহিলা পরিষদের লিগ্যাল এইড সম্পাদক রেখা সাহার সঞ্চালনায় সভায় আইনজীবীদের মধ্যে বক্তব্য দেন এস এ এ সবুর, জাহিদুল বারী, এ কে রাশেদুল হক এবং অমিত দাশগুপ্ত। বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন ব্র্যাকের মিতালী জাহান, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সুরাইয়া জামান, নারীপক্ষের ফেরদৌসী আক্তার, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের সেলিনা পারভীন এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের শিল্পী সাহা।

Sunday, 7 September 2025

দুই ছাত্রীকে উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের হুমকির অভিযোগ, ছাত্রদলের নিন্দা

 

দুই ছাত্রীকে উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের হুমকির অভিযোগ, ছাত্রদলের নিন্দা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক।ছবি: সৌরভ দাশ।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে দুই ছাত্রীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে এর নিন্দা জানিয়েছে শাখা ছাত্রদল। গতকাল শনিবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব যাঁদের ওপর, তাঁরাই যখন ভয়ভীতির উৎসে পরিণত হন, তখন তা পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে কলঙ্কিত করে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দীন মহসিন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান বিজ্ঞপ্তিতে সই করেন। এতে তাঁরা বলেন, গতকাল জামায়াত নেতার বক্তব্যের প্রতিবাদে প্রশাসনিক ভবনে ‘জমিদার ভবন লেখা’ কর্মসূচিতে দুই ছাত্রীর আইডি কার্ডের ছবি নিয়ে তাঁদের পরিবারকে ডেকে আনার হুমকি দেন উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার।

বিজ্ঞপ্তিতে এই দুই নেতা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আসন থেকেই যখন নারী শিক্ষার্থীদের এভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়, তখন বহিরাগতদের হাতে নারী নিপীড়ন হওয়া খুব স্বাভাবিক। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। পাশাপাশি ছাত্রী হলগুলোতে অযৌক্তিক শর্ত আরোপ করেছেন। অবিলম্বে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। নারী শিক্ষার্থীদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন,  ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্যায় হলে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করবে—এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। জুলাই–পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার রুদ্ধ করার চেষ্টা অন্যায়। তাই আমরা ছাত্রসংগঠন হিসেবে এর প্রতিবাদ জানিয়েছি।’

তবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি কোনো নারী শিক্ষার্থী হেনস্তা হওয়া বা হুমকি দেওয়ার ঘটনা প্রত্যক্ষ করিনি। বিশ্ববিদ্যালয় স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে যারা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে, তারা কখনোই শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।’

ছুটি কাটাতে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন, পথে প্রাণ গেল দম্পতির

 

ছুটি কাটাতে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন, পথে প্রাণ গেল দম্পতির

সঞ্জয় মণ্ডল ও শ্রাবন্তী ভাদুরী।ছবি: সংগৃহীত
 

পরিবারের সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি কাটাতে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন এক দম্পতি। পথে দ্রুতগামী গাড়ির চাপায় নিহত হয়েছেন দুজনই। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ডুমাইন গ্রামের সঞ্জয় মণ্ডল (২৬) ও তাঁর স্ত্রী শ্রাবন্তী ভাদুরী (২২)। সঞ্জয় ঢাকার সাভারের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। শ্রাবন্তী ছিলেন গৃহিণী।

পুলিশ ও স্থানীয় ব্যক্তিদের ভাষ্য, মহাসড়কের একটি ছোট গতিনিয়ন্ত্রক (স্পিডব্রেকার) পার হওয়ার সময় মোটরসাইকেল থেকে দুজন ছিটকে সড়কে পড়েন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা দৌলতদিয়া ঘাটগামী একটি যানবাহন তাঁদের চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই মারা যান শ্রাবন্তী। গুরুতর আহত সঞ্জয়কে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কৌশিক কুমার দাস বলেন, রাত সাড়ে ৯টার দিকে সঞ্জয়কে গুরুতর আহত অবস্থায় আনা হয়। মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

শ্রাবন্তীর চাচাতো ভাই সুকান্ত ভাদুরী বলেন, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত ১১টার দিকে মারা যান সঞ্জয়। আজ ভোরে শ্রাবন্তীর মরদেহ রাজবাড়ীর আহলাদীপুর হাইওয়ে থানা থেকে গ্রামে আনা হয়। তাঁদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার প্রস্তুতি চলছে।

সুকান্ত ভাদুরী জানান, প্রায় আট বছর আগে সঞ্জয় ও শ্রাবন্তীর বিয়ে হয়। তাঁদের কোনো সন্তান ছিল না। ছুটি পেলে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি আসতেন তাঁরা। গতকাল সন্ধ্যায় তাঁরা সাভার থেকে রওনা হন। রাত সাড়ে আটটার দিকে ফেরি পার হওয়ার সময় শ্রাবন্তী সর্বশেষ তাঁর মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়।

রাজবাড়ীর আহলাদীপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম শেখ বলেন, নিহত গৃহবধূর মরদেহ রাতেই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গুরুতর আহত সঞ্জয়কে ঢাকা নেওয়ার পথে মারা যান। দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেলটি পুলিশের হেফাজতে আছে। অজ্ঞাত যানবাহনটি শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফেনীতে ট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কা, দুজন নিহত

 

ফেনীতে ট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কা, দুজন নিহত

দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বাস। আজ সকাল আটটার দিকে তোলা।ছবি: হাইওয়ে পুলিশ থেকে নেওয়া

ফেনীতে বালুবাহী ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় দুজন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের একজন বাসের সুপারভাইজার ও আরেকজন চালকের সহকারী। আজ রোববার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী সদর উপজেলার হাফেজিয়া নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন পাবনা জেলার সাঁথিয়া থানার রঘুনাথপুর গ্রামের ওয়াজেদ আলীর ছেলে রবিউল ইসলাম (৩৬) ও যশোর জেলার ঝিকরগাছা থানার মোবারকপুর গ্রামের আবদুল আলী মোল্লার ছেলে মো. রফিক (৬০)। তাঁদের মধ্যে রবিউল সুপারভাইজার আর রফিক চালকের সহকারী ছিলেন।

হাইওয়ে পুলিশ সূত্র জানায়, মহাসড়কে বালুবাহী দ্রুতগতির একটি ট্রাক হঠাৎ ব্রেক করে। যাত্রীবাহী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস এ সময় পেছন থেকে ট্রাকটিকে ধাক্কা দেয়। এতে বাসচালক, চালকের সহকারী ও সুপারভাইজার গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। আহত বাসচালককে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ফেনীর মহিপাল হাইওয়ে থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুন উর রশিদ বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকে ট্রাকচালক পলাতক। ময়নাতদন্তের জন্য লাশগুলো হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করা হবে।

জাকসু নির্বাচন: ছাত্রদলের ৮ দফা ইশতেহার ঘোষণা

 

জাকসু নির্বাচন: ছাত্রদলের ৮ দফা ইশতেহার ঘোষণা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদকজাবি


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মনোনীত ‘সাদী-বৈশাখী-সাজ্জাদ-ইকরা’ পরিষদ ৮ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে।

শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর)  বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর সংলগ্ন ‘অদম্য ২৪’ ভাস্কর্যের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা ইশতেহার ঘোষণা করে।

ইশতেহারটি পাঠ করেন প্যানেলের সহ-সভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী মো. শেখ সাদী হাসান ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী তানজিলা হোসাইন বৈশাখী।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) পদপ্রার্থী মো. সাজ্জাদুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী) পদপ্রার্থী আনজুমান আরা ইকরাসহ অন্য প্রার্থীরা।

image-211372-1751118038

ইশতেহারের ৮ দফা হলো-

আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষা ও গবেষণা,শিক্ষাবান্ধব, নিরাপদ, মুক্ত ও বৈচিত্র্যময় ক্যাম্পাস,পরিকল্পিত আবাসন ও খাবারের উন্নত মান নিশ্চিতকরণ,নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ শিক্ষাঙ্গণ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা,মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, সুসমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থাপনা, ক্রীড়াচর্চা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, এবং পরিবেশ-প্রতিবেশ সংরক্ষণ ও প্রাণীবান্ধব ক্যাম্পাস।

করতে হবে। গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি ও গবেষণাগারের মানোন্নয়ন করা হবে। সব বর্ষে মানোন্নয়ন পরীক্ষার সুযোগ থাকতে হবে।

image-44613-1742273856

জোরপূর্বক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণে বাধ্য করা, গেস্টরুম-গণরুম সংস্কৃতি, র‍্যাগিং, নিপীড়ন, মানসিকভাবে হেনস্তা, শিক্ষার্থীদের অবদমিত করে জিম্মি করা এবং দখলদারিত্ব ও সন্ত্রাসের আত্মবিনাশী প্রক্রিয়াকে চিরতরে ক্যাম্পাস থেকে উৎখাত করা হবে। সব মত, পথ, মতাদর্শ, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, পাহাড়, সমতলের সহাবস্থান, সমতা ও বৈচিত্র্যের মাঝে একতা নিশ্চিত করা হবে।

ইশতেহারে আরও রয়েছে, প্রতিটি অনুষদে নারীদের জন্য নামাজের আলাদা রুমের ব্যবস্থা করা হবে। কেন্দ্রীয় মসজিদে নারীদের নামাজের জন্য পৃথক ব্যবস্থা নেওয়া। আবাসিক হলগুলোতে খেলাধুলাসহ সুস্থ ও শিক্ষামূলক বিনোদনের ব্যবস্থা করা হবে। হলগুলোকে মশা ও ছারপোকা থেকে মুক্ত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। পুষ্টিবিদদের সমন্বয়ে আবাসিক হলগুলোর মেস ও ক্যান্টিনে উন্নত খাবার তালিকা প্রণয়ন এবং বটতলার রেস্টুরেটগুলোসহ সব খাবারের পুষ্টিমান নিয়মিত যাচাইয়ের ব্যবস্থা করা হবে।

JU-Guest-Birds

নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ শিক্ষাঙ্গণ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে বলা হয়েছে, নারীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তাবাবস্থা অধিকতর জোরদার করা হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে নারী হলগুলোর সীমানা প্রাচীর ও হলগুলোর দিকের অ্যাপ্রোচ রোড সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে নারীদের নতুন হলগুলোর করিডরের বাইরের পাশে লোহার গ্রিল দেওয়া এবং সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে নারী রাজনীতিবান্ধব ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়নবিরোধী সেলটিকে আগামী দিনে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও অধিকতর কার্যকর করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের আধুনিকায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, সার্বক্ষণিক চিকিৎসক ও নার্সের উপস্থিতি, অ্যাম্বুলেন্স ও ফার্মেসি সেবা নিশ্চিত করা এবং জরুরি ঔষধসমূহ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। মহিলা চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ দিতে হবে। চিকিৎসাসেবা হতে হবে ২৪/৭ এবং চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সেবা নিশ্চিত করতে হবে বলেও অঙ্গীকার করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান পরিবহন সংকট সম্পর্কে বলা হয়েছে, ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ পরিবহন সংকট নিরসনকল্পে নিয়ন্ত্রিত ও পরিকল্পিতভাবে নিরাপদ অটোরিকশা চালু এবং ইলেকট্রিক কাটের সংখ্যা বৃদ্ধি ও ভাড়া হ্রাস করা হবে। শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে বিদ্যমান বাস রুট পর্যালোচনা, বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি ও নতুন রুট চালু করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বাসে জিপিএস ট্র্যাকার স্থাপন করে একটি মোবাইল অ্যাপস চালু করা হবে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাসের লাইড লোকেশন ও সময়সূচি জানতে পারবে।

_108816525_3d7ae487-fa4e-40ea-b7ba-8c437b4e133f.jpg

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ-প্রকৃতি, উদ্যান, গাছপালা ও সবুজ আবহ সংরক্ষণ ও বৃদ্ধি করা হবে। বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির সব উদ্ভিদ সংরক্ষণে কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। ক্যাম্পাসে বিচরণরত সব প্রাণীর জন্য অনুকূল পরিবেশ এবং বিলুপ্তায় প্রাণী সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে ইশতেহারে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি 'ইনক্লুসিভ' বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করা, সব শিক্ষার্থীদের জন্য একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা এবং নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতাকে প্রাধান্য দিয়ে ইশতেহার তৈরি করা হয়েছে বলে জানান সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী তানজিলা হোসাইন বৈশাখি।

তিনি আরও বলেন, যখন জাকসুর তফশিল ঘোষণা হয়, তার আগেই আমরা প্রশাসনকে অনুরোধ করেছিলাম যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শীর্ষ পদগুলোতে নারীদের রিপ্রেজেন্টেশন রাখতে হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) জাকসু নির্বাচন সামনে রেখে মো. শেখ সাদী হাসানকে সহ-সভাপতি ও তানজিলা হোসাইন বৈশাখীকে সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনীত করে ২৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ প্যানেল প্রকাশ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

Saturday, 6 September 2025

চাঁদপুরে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ, যুবক গ্রেপ্তার

চাঁদপুরে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ, যুবক গ্রেপ্তার

 ধর্ষণ।প্রতীকী ছবি

চাঁদপুরে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে (২৪) তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে সদর উপজেলার একটি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার যুবকের নাম মো. মুরাদ হোসেন (৩৭)। তিনি চাঁদপুর শহরের প্রফেসর পাড়ার বাসিন্দা। তিনি ভাড়ায় অ্যাম্বুলেন্স চালান।

ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর ভগ্নিপতি বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় মুরাদ হোসেনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা দুই থেকে তিনজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন। আজ শনিবার দুপুরে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাহার মিয়া এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে সদর উপজেলার একটি ইউনিয়নে ওই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। তখন ওই সড়কে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইবাদুল হক ও সঙ্গীয় ফোর্স টহল দিচ্ছিলেন। অ্যাম্বুলেন্সটি সড়কের পাশে থামানো অবস্থায় দেখে সন্দেহে হলে তল্লাশি চালিয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করা হয় এবং অ্যাম্বুলেন্সসহ চালককে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চালক মুরাদ হোসেন ঢাকা থেকে রোগী নিয়ে পাশের লক্ষ্মীপুর জেলায় যান। সেখান থেকে চাঁদপুরে আসার পথে লক্ষ্মীপুর বাসস্ট্যান্ডে ঘোরাঘুরি করা অবস্থায় কয়েকজনের সহযোগিতায় ওই নারীকে যাত্রীবেশে তাঁর অ্যাম্বুলেন্সে তুলে নিয়ে আসেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে তাঁকে ধর্ষণ করেন।

ভুক্তভোগী নারীর ভগ্নিপতি বলেন, ওই নারী মানসিক ভারসাম্যহীন। স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়েছে। মা–বাবার সঙ্গে বাড়িতে থাকেন। মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় স্বজনদের অজান্তে মাঝেমধ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। ওই নারী ৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে বাড়ির সবার অজান্তে বের হয়ে যান। এরপর বাড়িতে না আসায় পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। আজ চাঁদপুর সদর মডেল থানা-পুলিশের মাধ্যমে ধর্ষণের খবর পান।

ওসি মো. বাহার মিয়া বলেন, ওই নারী মানসিক ভারসাম্যহীন। প্রায় সময় বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতেন। লক্ষ্মীপুর বাসস্ট্যান্ডে ঘোরাঘুরির সময় অ্যাম্বুলেন্সচালক তাঁকে তুলে নিয়ে আসেন। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

আলোচনার মধ্যে আন্দোলন কেন, ব্যাখ্যা দিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি

  আলোচনার মধ্যে আন্দোলন কেন, ব্যাখ্যা দিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জুলাই সনদের ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানসহ ৫ দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলাম...